বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপরে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ঘর-বাড়িতে পানি থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বন্যা কবলিত মানুষজন। এছাড়া দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট।

এদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করা জেলার ২৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখেছে শিক্ষা বিভাগ। বন্যার্তদের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকলেও সবার ভাগ্যে জুটছে না তা।

বুধবার (২২ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্ট ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতোলা গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গত ৫-৬ দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছি। বাড়ি থেকে বাইরে যেতে পারছি না। এখনো কোনো সহায়তা পাই নাই। খুব কষ্টে আছি।’

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বড়াই বাড়ি এলাকার মমিন মিয়া বলেন, ‘বন্যার কারণে কাজকর্ম বন্ধ। বাজার করতে পারছি না। পানিতে চলাফেরা করতে করতে গেলে পায়ে ঘা হয়ে যাচ্ছে।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, ‘সরকারিভাবে আমার ইউনিয়নের জন্য চার টন চাল পেয়েছি তা ১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক বন্যা কবলিত মানুষকে এখনো ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে ২৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘৯ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩৩৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করেছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


ফেসবুকে আমরা