শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

আসন্ন ঈদে মহাসড়কে থাকবে র‌্যাবের নজরদারি

আরিফুল হক আরিফ : আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে মহাসড়কে চুরি-ছিনতাই-চাঁদাবাজি রোধে বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শনিবার (০৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

সাভারের বালিয়ারপুর মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতচক্র ঠাণ্ডা-শামীম বাহিনীর ১১ জনকে আটকের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, রোজার ঈদের আগে আমরা ৫ শতাধিক চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারী গ্রেফতার করেছি। কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে ডাকাত-ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তারা ট্রাক থেকে গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। যেহেতু মহাহাসড়কে ডাকাতির বিষয়টি বর্তমানে একটি আলোচিত বিষয়, তাই এসব ঘটনায় যারা জড়িত, যারা মূল হোতা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি ভবিষ্যতেও বেশ কয়েকটি চক্রকে আমরা ধরতে পারবো।

তিনি বলেন, মহাসড়কে ডাকাত চক্রদের গ্রেফতারে বিশেষ গোয়েন্দা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৩ এর আভিযানে শুক্রবার (৩ জুন) দিনগত রাতে সাভার থেকে ঠাণ্ডা-শামীম বাহিনীর ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি পাইপগান, ২টি ওয়ান শুটারগান, ৬রাউন্ড গুলি, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি শাবল, ৩টি রশি, ১টি লোহার রড, ১টি চাপাতি, ২টি রামদা, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি করাত, ১টি হাউস কাটার, ২টি ছুরি, ২টি টর্চ লাইট, ১১টি ব্যাগ, ২টি হ্যাক্সো ব্লেড , ১টি দা, ২টি লেজার লাইট, ২টি প্লাস, ১টি দেশি কুড়াল এবং ১টি হাতুরি উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- শামিম ওরফে সব্দুল (৩০), আনিসুর রহমান ওরফে ঠাণ্ডা (৪৫), সালাউদ্দিন (২৩), ইখতিয়ার উদ্দিন (৩১), সাইফুল ইসলাম (৩৫), জাহাঙ্গীর সরকার (৪০), সজিব ইসলাম (২৫), জীবন সরকার (৩৪), স্বপন চন্দ্র রায় (২১), মিনহাজুর ইসলাম (২০) ও মাধব চন্দ্র সরকার (২৬)।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঠাণ্ডা-শামীম বাহিনীর মূলহোতা শামীম ওরফে সব্দুল এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিসুর ওরফে ঠাণ্ডা। এই বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-সড়কে ডাকাতি করে আসছেন। তারা গাছ কেটে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাত্রীবাহী বাস, গরুবাহী ট্রাক, মালবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন মালামালের গুদামে ডাকাতি করে আসছিলেন।

ঠাণ্ডা-শামীম বাহিনীর সদস্যরা অন্ধকার রাস্তায় ওৎ পেতে থাকতেন। ডাকাতি করার জন্য পূর্ব পরিকল্পিত নির্ধারিত স্থানে ডাকাত দলের সদস্য টার্গেট বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস সম্পর্কে সংকেত দিতেন। সংকেত পাওয়া মাত্রই ডাকাত দলের মধ্যে গাছ কাটার দায়িত্ব প্রাপ্ত সদস্যরা দ্রুত গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে দিতেন। অন্যদিকে ডাকাত দলের অপর সদস্যরা গাড়ির চালক ও যাত্রীদের অস্ত্র প্রদর্শন করে সর্বস্ব লুটে নিতেন।

যেখানে গাছ কাটার সুযোগ থাকে না সেখানে তারা চালকের চোখে আলো ফেলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডাকাতি করতেন। এসব ডাকাতির ঘটনায় শামীম এবং আনিসুর একাধিকবার আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, জেলহাজতে থাকার সময় তাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন অপরাধীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। পরে জামিনে বের হয়ে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে ডাকাত বাহিনী গড়ে তোলেন। তাদের বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২৫ জন।

এছাড়া, তারা যে এলাকায় ডাকাতি করার পরিকল্পনা করেন ওই এলাকার স্থানীয় অপরাধী ডাকাত-মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও পরিবহন শ্রমিক, গোডাউনের কর্মচারী ও নৈশ প্রহরীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ডাকাতির পরিকল্পনা করে থাকেন।

তিনি বলেন, আটক সালাউদ্দিন ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। সার্বিক বিচার বিবেচনা করে আনিসুর, শামীম এবং সালাউদ্দিন একত্রে বসে ডাকাতির মূল পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাতির জন্য নির্ধারিত স্থানে সালাউদ্দিন পূর্বেই অবস্থান করে তথ্য সংগ্রহ করতেন। ডাকাতি শেষে নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার বিষয়ে ঠাণ্ডা-শামীমের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতো।

বাহিনীর অন্যতম সদস্য আটক ইখতিয়ার উদ্দিন পেশায় ড্রাইভার। বিভিন্ন সময় ডাকাতির ধরন অনুযায়ী মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন সরবরাহ করে নিজে চালকের ভূমিকা পালন করতেন। ডাকাতির পূর্বে ঘটনাস্থল রেকি, ডাকাতির সময় ও ডাকাতি শেষে ঘটনাস্থল হতে পালানো এবং ডাকাতির মালামাল পরিবহনের দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।

আনিসুর ২০০৪ সাল থেকে ডাকাতি করে আসছেন। ২০১৬ সালে শামীমের সঙ্গে তার পরিচয়ের সূত্রে তারা একসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করতেন। এছাড়া, এই বাহিনী তাদের ডাকাতির ধরন এবং চাহিদা অনুযায়ী ভাড়ায় লোকবল সংগ্রহ করে থাকে। তারা গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ নানা এলাকায় অসংখ্য ডাকাতি করেছেন বলে জানা গেছে।

ডাকাতি থেকে প্রাপ্ত মালামালের অর্ধেক আনিসুর এবং শামীম ভাগ করে নিতেন। আর অর্ধেক মালামাল অন্যদের কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হতো। ডাকাতি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ভোগ বিলাস ও মামলার খরচ মেটাতে ব্যয় করতেন বলে জানা গেছে।

তারা সাভারের হেমায়েতপুরে ১টি ব্যাটারির কারখানায় ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তারা র‌্যাবের হাতে আটক হন। আটকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা