রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

আজ ১ আগস্ট বন্ধু দিবস

আরিফুল হক : যুগে যুগে শিল্প-সাহিত্যে বন্ধুত্বের জয়গান লেখা হয়েছে বহুভাবে। তৈরি হয়েছে নাটক সিনেমা গানও। আগে বন্ধুত্বকে বরণ করে নেয়া হতো কার্ড, ফুল, চিঠিতে বার্তা পাঠিয়ে। সীমিত ছিল বন্ধুর সংখ্যাও। তবে আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে চিরচেনা সেই রীতি আর নেই। এখন যত দূরেই থাক আর যেভাবেই থাক বন্ধুরা যেন সবসময় ছুঁয়েই থাকে। যদিও তা বাস্তবে নয়, ভার্চুয়ালি। এমন এক যুগ সন্ধিক্ষণে আজ আবারও এসেছে বন্ধু দিবস। তবে দিবসটি ম্লান বিবর্ণ করে দিয়েছে করোনার থাবা। বিশ্বজুড়ে নীরবে প্রাণ কেড়ে নেয়ার ভয়ংকর উৎসব চলছে। কতো বন্ধু-স্বজন যে পাশ থেকে নেই হয়ে যাচ্ছে তার ঠিক নেই। এমন বন্ধুর সময়ের মধ্যেও আজ সবচে বড় প্রয়োজন বন্ধুকেই।

আজ এই বন্ধু দিবসে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও/মনের মাঝেতে চিরদিন তাকে ডেকে নিও/ভুলো না তারে ডেকে নিতে তুমি…গানটি যেন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। এই মহাদুর্যোগে জীবনের টানেই বন্ধুর পাশে থাকা, তাকে চিনে নেয়া বড্ড প্রয়োজন। কেননা আমরা বলে থাকি বিপদের বন্ধুই বড় বন্ধু। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের দেশে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বড় মধুর। আমাদের শিল্প সাহিত্যে ও সংগীতে বন্ধুত্বের সেই নিদর্শন দেখি। বহু গান লেখা হয়েছে বন্ধুকে নিয়ে। অনেকে বন্ধুত্বকেই জীবনের সেরা সম্পর্ক বলে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। যে সম্পর্কের মধ্যে মধুরতম অনুভূতি লুকিয়ে থাকে। কারো কারো কাছে বন্ধুত্ব শব্দটি যেন বিশ্বস্ততা আর নির্ভরতারও প্রতীক। এ বন্ধন চিরন্তন, শাশ্বত, সার্বজনীন। যা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এক ধরনের স্বস্তি খুঁজে পাই। বয়স-সময়-স্থান সব ছাপিয়ে এই শব্দটি আমাদের একাকার করে দেয়। শব্দটি যেন খুব কাছের। অন্যরকম অনুভুতিমাখা। আজকের বন্ধু দিবসে হৃদয়ের গহীনতম প্রদেশে লুকিয়ে থাকা সেই অনুভূতির প্রকাশ ঘটবে সরবে-নীরবে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে। অনেকে এই দিনে বন্ধুদের ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড পড়িয়ে কিংবা তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সেলিব্রেট করে থাকে। কিন্তু করোনা মহামারীর প্রতিকুল সময়ে এমন দৃশ্য দেখা না গেলেও ভার্চুয়াল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্বের সৌহার্দময় সৌন্দর্যে একাকার হয়ে উঠবে। অনেকের ইনবক্স ভরে উঠবে নানা ফুলের সুবাসে…।

প্রতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস। ডাক্তার রামন আর্টেমিও ব্রাকো ২০শে জুলাই তার বন্ধু পুয়ার্ত পিনাস্ক এর সঙ্গে প্রথম ডিনার করে এই দিনটি পালন করেন। তারপর ডাক্তার রামন আর্টেমিও ব্রাকোই ১৯৫৮ সালে প্রথম ৩০শে জুলাই প্রস্তাব রাখেন ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেডে। সেদিন থেকেই ৩০শে জুলাইকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস হিসাবে পালন করা হয়। যদিও অনেক দেশে এই দিনটি তারিখে পালন করা হয়। যেমন-বাংলাদেশ ও ভারতে এই দিনটি পালন করা হয় অগাস্ট মাসের প্রথম রবিবার। ব্রাজিল, উরুগুয়ে তে ২০ জুলাই।

আবার ধারণা করা হয়, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই দিন উদযাপন শুরু হয়। পরে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে একেক দেশে একেক তারিখে বন্ধু দিবস পালিত হয়। ১৯৫৮ সালের ৩০ জুলাই প্রথম ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপন হওয়ার পর ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলি অফ দ্য ইউনাইটেড নেশন’ ২০১১ সালের ৩০ জুলাই দিনটি আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। অন্যদিকে ১৯১৯ সালে ‘হলমার্ক কার্ড’র প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এমনটাই জানা যায়। তখন আগস্টের প্রথম রবিবার সবাই বন্ধুদের কার্ড এবং উপহার পাঠিয়ে এই দিবস উদযাপন করতো।

১৯২০ সালে এই দিনটি গ্রিটিং কার্ড ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা প্রচারিত হয়েছিল। যেখানে অনেক গ্রাহকরাই মনে করেছিল যে, গ্রিটিংস কার্ডগুলি প্রচার করার জন্যই এই দিবসটি আনা হয়েছে। এটিকে সেই সময় বাণিজ্যিক কৌশল বলেই মনে করেছিল অনেকে। ১৯৪০এর দশকে মার্কিন মুলুকে প্রচুর ফ্রেন্ডশিপ ডে কার্ড পাওয়া গিয়েছিল। যদিও ইউরোপে এরকম কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে এশিয়ান দেশগুলি এই দিনটি পালন করা শুরু করে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে বন্ধুত্ব দিবসের সম্মানে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল কফি আনানের স্ত্রী নান আনানকে জাতিসংঘে বিশ্বের বন্ধুত্বের রাষ্ট্রদূত হিসাবে উইনি পোহকে নামকরণ করেছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক আমরা